
বিশ্বকর্মা পুজো মানেই শুধু কলকারখানা বা কর্মক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির পুজো নয়। এই দিনে বহু মানুষ তাঁদের গাড়ি, বাইক, অটো কিংবা অন্যান্য যানবাহনেরও পুজো করেন। বিশ্বাস অনুযায়ী, যানবাহন ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে যুক্ত কাজে বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ কামনা করতেই এই রীতি পালন করা হয়।
চলতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্বকর্মা পুজো। এই বিশেষ দিনে অনেকেই বাড়িতে বা কর্মস্থানে নিজের গাড়ি-বাইক পরিষ্কার করে পুজো করেন। জ্যোতিষীদের মতে, নির্দিষ্ট শুভ সময়ে পুজো করলে তা আরও নিয়ম মেনে করা হয়। তবে সময় ও রীতিনীতি নিয়ে অঞ্চল ও পঞ্জিকা অনুযায়ী কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
বিশ্বকর্মা পুজোয় গাড়ির পুজোর শুভ সময়
জ্যোতিষমতে, ১৮ সেপ্টেম্বর গাড়ি বা যানবাহনের পুজোর জন্য কয়েকটি অমৃতযোগ ও মাহেন্দ্রযোগ রয়েছে।
অমৃতযোগ
সকাল ৭টা ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত
সকাল ৭টা ৫২ মিনিট ৮ সেকেন্ড থেকে ১০টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত
দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিট ৬ সেকেন্ড থেকে ২টা ২১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পর্যন্ত
বিকেল ৩টা ৫৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড থেকে ৫টা ৩৫ মিনিট ২৯ সেকেন্ড পর্যন্ত
সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ড থেকে রাত ৮টা ৪৭ মিনিট ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত
মাহেন্দ্রযোগ
রাত ১০টা ২২ মিনিট ৫২ সেকেন্ড থেকে ১১টা ৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ড পর্যন্ত
রাত ৩টা ৫১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড থেকে ভোর ৫টা ২৬ মিনিট ২৮ সেকেন্ড পর্যন্ত
কীভাবে করবেন গাড়ি বা বাইকের পুজো?
গাড়ির পুজো করতে খুব জটিল আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কয়েকটি ধাপে পুজো করা যায়।
১. প্রথমে ভালো করে পরিষ্কার করুন
পুজোর আগে গাড়ি বা বাইকটি ভালোভাবে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে নিন। গাড়ির ভিতর ও বাইরের অংশও যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখা ভালো।
২. স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন
এরপর তেল ও সিঁদুর দিয়ে গাড়ির সামনের অংশে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা হয়। অনেকে ইঞ্জিনের উপরও এই চিহ্ন আঁকেন।
৩. ফুল ও ধূপ দিয়ে পুজো করুন
আতপ চাল, ফুল, ধূপ এবং প্রদীপ দিয়ে যানবাহনের পুজো করা যায়। নিজের পারিবারিক বা পুরোহিতের প্রচলিত নিয়ম থাকলে সেই নিয়মও অনুসরণ করতে পারেন।
৪. ইঞ্জিন চালু করার রীতি
কিছু প্রচলিত রীতিতে পুজোর সময় একবার গাড়ি বা বাইকের ইঞ্জিন চালু করার কথা বলা হয়।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে গাড়ি চালানো যাবে?
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পুজোর পর অপ্রয়োজনে গাড়ি বা বাইক না বের করার রীতি রয়েছে। পরিবারের অনেকে এই দিনে অন্য কাউকেও নিজেদের যানবাহন ব্যবহার করতে দেন না। তবে জরুরি প্রয়োজনে নিরাপত্তা ও বাস্তব পরিস্থিতিকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
নোট: শুভ সময় ও পুজোর বিধি পঞ্জিকা, স্থান এবং পারিবারিক রীতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। উপরের সময়গুলি জ্যোতিষভিত্তিক প্রচলিত তথ্য হিসেবে দেওয়া হল।




Leave a Reply