শ্রীরামপুর: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে নিয়ে সভা করছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাইক হাতে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখার মাঝেই হঠাৎ তাঁর নজর যায় আকাশের দিকে। সভামঞ্চ থেকে কর্মীদেরও আকাশের দিকে তাকাতে বলেন তিনি। এরপরই ড্রোন নিয়ে কটাক্ষ করতে শোনা যায় তাঁকে।

সভায় বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আকাশের দিকে আঙুল তুলে কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “ওই দেখো ড্রোন উড়ছে। ঘুরে বেড়াচ্ছে। কে কে বসে আছে দেখছে। তারপর রাতে গ্রেফতার করবে।”

এরপর হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “এই দেখুন… এই দেখুন ড্রোন ওড়াচ্ছে। নজর রাখছে।” ড্রোনের প্রসঙ্গ টেনে মমতার মন্তব্য, “ড্রোনের নৃত্য হচ্ছে। মাঠে শোওয়ার লোক নেই, অথচ ড্রোনের নৃত্য হচ্ছে। আরে, কার চোখকে ফাঁকি দিবি রে? আমি তো চালিয়ে এসেছি পনেরো বছর। আমি তো জানি কোথা থেকে কী হয়।”

সভায় নিজের বক্তব্যের একাধিক অংশে দলের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার এবং তাঁদের উপর নজরদারি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দলের কর্মীদের সভা-সমিতিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভোটের পর তাঁকেও হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের বাড়ি এবং গতিবিধির উপরেও নজর রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন—সেই সমস্ত বিষয় নজরে রাখা হচ্ছে।

এ দিন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, আজ ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, যাঁরা অন্যায় করছে তাঁদের নাম রেকর্ড আছে।” এরপর তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে অন্যায়কারীদেরও জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে।

তাঁর কথায়, “যখন ফাঁসবেন তখন বিজেপির লুম্পেনদের পাবেন না। তখন আপনার চেয়ার ও পরিবার বিপদে পড়বে। এটা চাই না আমি।”

তবে এ দিনের সভায় ড্রোন প্রসঙ্গটি বক্তব্যের মাঝে আলাদা করে নজর কেড়ে নেয়। আকাশে ড্রোন দেখতে পেয়ে মমতার আচমকা মন্তব্য, কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর ইঙ্গিত এবং এরপর ‘কার চোখকে ফাঁকি দিবি রে?’—এই বক্তব্য নিয়েই সভাস্থলে আলোচনা শুরু হয়।

সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা দেন, অন্যদিকে নজরদারি ও গ্রেফতার নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। সেই বক্তব্যের মাঝেই আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনকে ঘিরে তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সভার অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Trending