ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। নেপালের বজহাংয়ে একটি জীবন্ত কুকুরকে সেতু থেকে নদীতে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলার বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর তদন্ত শুরু করে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম বিমলা দেবী রোকায়া। তাঁর বয়স ৪২ বছর। তিনি নেপালের জয় পৃথ্বী পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাদেশ এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে হেফাজতে রেখে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।ভাইরাল ভিডিও থেকেই শুরু তদন্ত
অভিযোগের সূত্রপাত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জয় পৃথ্বী পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চেইনপুর এলাকার পাঙ্কোট ব্রিজ থেকে একটি কুকুরকে নদীর দিকে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত মহিলা জয় পৃথ্বী পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিমলা দেবী রোকায়া। এরপর তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কেন নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কুকুরটিকে?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে ওই মহিলা যে কারণ জানিয়েছেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। পুলিশ জানিয়েছে, রোকায়ার দাবি, কুকুরটি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং তাঁর বাড়ির আশপাশ দিয়ে যাতায়াত করা মানুষকে কামড়াচ্ছিল। সেই কারণেই তিনি কুকুরটিকে নদীতে ফেলে দেন বলে জানিয়েছেন।
তবে এই বক্তব্যই ঘটনার চূড়ান্ত কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, কুকুরটির সঙ্গে আগে কী ঘটেছিল এবং নদীতে ফেলার সময় তার অবস্থা কী ছিল—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশপুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কুকুরটি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিল বলে জানা যায়। তার শরীরের পিছনের অংশে ক্ষত তৈরি হয়ে পচন ধরেছিল এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধও বের হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতেই নজরে আসে ঘটনা
এই ঘটনার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণত পশুর উপর নির্যাতনের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না বা অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত গড়ায় না। কিন্তু কোনও ঘটনার ছবি বা ভিডিও সামনে এলে পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
নেপালে পশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে ভিডিও, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের মতো তথ্য থাকলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। একই সঙ্গে সেখানে পশু নির্যাতনের বহু ঘটনা রিপোর্টই হয় না বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।নেপালে পশু নির্যাতনের শাস্তি কী?
নেপালের Muluki Criminal Code, 2017-এ পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। আইনের ২৯০ ধারায় পশুকে মারধর করা, আঘাত করা, তার ক্ষমতার বেশি ভার চাপানো, অসুস্থ পশুকে কাজ করানো বা অন্য কোনওভাবে নিষ্ঠুর আচরণ করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৫,০০০ নেপালি টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা দু’টিই হতে পারে। নেপালের সুপ্রিম কোর্টের একটি নথিতেও এই বিধানের উল্লেখ রয়েছেতবে পশু নির্যাতনের ঘটনায় আইন প্রয়োগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নেপালে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু ঘটনা পুলিশের কাছে অভিযোগ হিসেবেই পৌঁছয় না। এমনকি মামলা আদালত পর্যন্ত গেলেও সাজা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। প্রতিবেদনটিতে খোটাংয়ের একটি মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে একটি কুকুরকে হত্যা করার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক সপ্তাহের কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ নেপালি টাকা জরিমানা করা হয়েছিলবিমলা দেবী রোকায়াকে গ্রেফতারের পর পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বজহাং জেলা পুলিশ। কুকুরটিকে ঠিক কীভাবে নদীতে ফেলা হয়েছিল, ঘটনার আগে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং অভিযুক্তের বক্তব্যের সত্যতা কতটা—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে দ্রুত গ্রেফতার হলেও, এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন নজরে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Trending