শর্মিষ্ঠা-সহ নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে এবার চিন সরকারের সঙ্গে কথা বলার আবেদন। বুধবার নবান্নে পরিবারের সদস্যদের বৈঠক।

চিন-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় নিখোঁজ বাংলার পর্যটকদের নিয়ে এখনও কাটেনি উদ্বেগ। স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়-সহ নিখোঁজ ৩২ জন পর্যটককে নিয়ে এবার নতুন সম্ভাবনার কথা সামনে আনলেন শুভ্রাংশু রায়। তাঁর দাবি, নিখোঁজ পর্যটকেরা হয়তো চিন-তিব্বতের কোনও এলাকায় নিরাপদে রয়েছেন। সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ভারত ও রাজ্য সরকারের তরফে চিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শুভ্রাংশুর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েকটি তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে তাঁর মনে হয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকেরা হয়তো কোনও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
জানা গিয়েছে, বুধবার নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যরা নবান্নে যাবেন। সেখানে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে।
শুভ্রাংশুর বক্তব্য, কিছু সংবাদমাধ্যমে নিখোঁজ পর্যটকদের বিষয়ে একাধিক ধরনের তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় পরিবারের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। তাই অনুমানের পরিবর্তে সরকারি স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সঠিক তথ্য সামনে আনার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।


কেন চিনের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলছেন শুভ্রাংশু?
শুভ্রাংশুর বক্তব্যের পিছনে রয়েছে পর্যটকদের যাতায়াত সংক্রান্ত কিছু তথ্য। তাঁর দাবি, সরকারি নথি অনুযায়ী শর্মিষ্ঠা ঘটনার দিন সকালে ইমিগ্রেশন সেন্টার পার হয়ে চিনের দিকে এগিয়েছিলেন। এরপরই সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং চেকপয়েন্ট বন্ধ হয়ে যায় বলে তাঁর দাবি।
এই সময়ের ব্যবধানের ভিত্তিতেই শুভ্রাংশুর অনুমান, বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে ওই এলাকায় থাকা বহু পর্যটককে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। সেই তালিকায় বাংলার নিখোঁজ পর্যটকেরাও ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর আরও বক্তব্য, তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মোবাইল বা অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে, নিরাপদে থাকা পর্যটকদের সঙ্গেও পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
সরকারের কাছে কী আবেদন?
শুভ্রাংশুর আবেদন, ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হোক। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারও যাতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে, সেই আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাঁরা কোথায় রয়েছেন এবং আদৌ নিরাপদে আছেন কি না। বুধবার নবান্নের বৈঠকের পর এই বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর পরিবারের সদস্যদের।

Leave a comment

Trending